Posts

Showing posts from February, 2021

প্রশান্তিময় কোরআনের সুর

Image
   সেনাপতি! এত অস্থির লাগছে কেন আমার? কেন বারবার শিহরিত ও তৃষ্ণার্ত হচ্ছি আমি? ঐ কয়েদি আমাকে এ কি শুনাল? রাজা কথাগুলো বলছিলেন আর বারবার সেনাপতির হাত আঁকড়ে ধরছিলেন। সেনাপতি তার হাতটি আরেকটু শক্ত করে ধরে বললেন, মহারাজ! আপনি শান্ত হোন। অনুগ্রহ করে আমাকে বলুন কী হয়েছে আপনার। কেন আপনি এমন করছেন? রাজা তখন প্রায় কেঁদেই দিলেন। কাঁপা কাঁপা গলায় বললেন, বহুবছর আগে শহরের শেষ প্রান্ত ভ্রমণের সময় কেউ একজন এই সুর শুনিয়েছিল। আপনি বিশ্বাস করুন সেনাপতি ঐ সুর শুনে তখন ভেতরটা কেমন করছিল আমার। কিছু সময়ের জন্য কি এক প্রশান্তির স্রোতে ভেসে গিয়েছিলাম আমি। কিন্তু আমার ব্যস্ততা আমাকে ঐ প্রশান্তির স্রোত থেকে ঝাপটে ধরে নিয়ে এসেছিল। আজ সেই সুর আবার কানে এলো আমার। ফের যখন এই সুর শুনছিলাম আমি বারবার মনে হচ্ছিল কতকাল ধরে যেন এই সুর শ্রবণের তৃষ্ণায় তৃষ্ণার্ত ছিলাম আমি। (সেনাপতি রাজার এমন অস্থিরতা দেখে নিজেও স্থির থাকতে পারছিলেন না। রাজা হলেও তিনি সেনাপতির ভালো একজন বন্ধু। রাজ্যের বিষয়াদি ছাড়াও দুজনে একে অন্যের সুখ দুঃখ ভাগাভাগি করেন। কিন্তু শরীর ভালো না থাকায় গত দুদিন তিনি রাজার সঙ্গ দিতে পারেন নি।) সেনাপতি আ...

একুশের কবিতা

Image
  ফেব্রুয়ারির একুশ তারিখ দুপুর বেলার অক্ত বৃষ্টি নামে, বৃষ্টি কোথায় ? বরকতের রক্ত। হাজার যুগের সূর্যতাপে জ্বলবে এমন লাল যে, সেই লোহিতেই লাল হয়েছে কৃষ্ণচূড়ার ডাল যে ! প্রভাতফেরীর মিছিল যাবে ছড়াও ফুলের বন্যা বিষাদগীতি গাইছে পথে তিতুমীরের কন্যা। চিনতে না কি সোনার ছেলে ক্ষুদিরামকে চিনতে ? রুদ্ধশ্বাসে প্রাণ দিলো যে মুক্ত বাতাস কিনতে ? পাহাড়তলীর মরণ চূড়ায় ঝাঁপ দিল যে অগ্নি, ফেব্রুয়ারির শোকের বসন পরলো তারই ভগ্নী। প্রভাতফেরী, প্রভাতফেরী আমায় নেবে সঙ্গে, বাংলা আমার বচন, আমি জন্মেছি এই বঙ্গে। আল মাহমুদ  

বাসর ঘরে জরিমানা

Image
   এই কি করছেন টা কি…??? ( আমার বউ ) -কেন বিছানায় উঠছি ..। (আমি হালকা ভয় পেয়ে) -কেন বিছানায় উঠছেন কেন?? -কেন তাহলে কি করবো ?? -কি করবেন মানে ??? -না মানে বিছানায় উঠবো না কেন ??? -না উঠতে পারবেন না ।। -তাহলে কি করবো ??? -আমি কি জানি । জান সোফায় গিয়ে বসে থাকেন । . . আমি, আকাশ । বিদেশ থেকে লেখাপড়া শেষ করে মাত্র তিন দিন হলো দেশে এসেছি । আর এরই মধ্যে আমার জীবনের 12 টা বাজিয়ে দিল । কি আর করা বিয়েটা করতে হলো । মেয়েটার নাম অনামিকা । কিন্তু আমি ভেবেছি ঢং কইরা অনু ডাকবো । কিন্তু মা ভাবি মিলে কেমন বউ এনে দিল আমাকে । বিছানায়ই উঠতে দিচ্ছে না । আমি আবার তাহসান স্টাইল তো তাই মেযেদের সাথে তেমন ইজি ফিল করতে পারি না । কিন্তু বাসর রাতেই আমার সাথে অত্যাচার করা হচ্ছে । না এটা হবে না …. . -শুনো ( এটা বলতেই আমার দিকে গরম চোখে তাকালো তাই ভয় পেয়ে বললাম… -না মানে শুনুন । -কি ….??? (অনামিকা) -দেখো তুমি না মানে আপনি আমার বিয়ে করা বউ ।(আমি) -সো হোয়াট…??(অনামিকা) -না মানে একটু বিছানায় উঠি ??? এটাতো আমারও বিছানা …….ভাগ আছে । -ওয়েট, ওয়েট আপনারও ভাগ আছে রাইট ।বাট আপনাকে বিছানায় উঠতে হলে কিছু কাজ করতে হবে । (অ...

তুমিময় অসুখ পর্ব- ১

Image
  ১. লেখনীতে -ইশরাত জাহান ফারিয়া 'আঠারো বছর বয়সটা প্রেমে পড়ার বয়স, আর তুই কি করলি ইরু! এ বয়সেই কাঁচা মরিচ! মা-বাবা ধরে বিয়ে দিলো আর তুইও ধেইধেই করে বিয়ে করে ফেললি! একটু প্রেমট্রেম করতি, লাইফ এনজয় করতি। প্রেম করলে ক্ষতিটা কি হতো? এখনই তো বয়স, তাইনা?' আমি চুপচাপ বসে আছি। অভ্র ভাইয়া বিরক্ত কন্ঠে বললেন, 'কি কথা বলছিস না কেন? ওহহ! তুই তো আবার কথা কম বলিস। যাইহোক, তোর বান্ধবী সারা'র নাম্বারটা দিস তো, কথা আছে।' আমি অভ্র ভাইয়ার কথা শুনে বোকার মতো তাকিয়ে রইলাম। আজ আমাদের বাসর রাত! সবেমাত্র কাল আঠারো'তে পা দিলাম। আর আজ একুশ বছর বয়সী অভ্র ভাইয়ার সাথে আমার বিয়ে দিয়ে দিলো ফ্যামিলির লোকেরা। যেন তারা আমার আঠারো বছর বয়সের অপেক্ষা করছিলো। আমি বরাবরই বোকাসোকা, বিয়ে কি আজও বুঝিনা। শুধু জানি বিয়ে হলে স্বামীর কথা শুনতে হয়। অবাধ্য হলে গুনাহ হয়! তাই আমিও ঠিক করেছি, অভ্র ভাইয়ার কথা শুনে শুনেই চলবো। ---"কিরে ইরাম! শুনছিস?" আমি চমকে উঠলাম। অভ্র ভাইয়া আমার শাড়ির আঁচল টেনে ধরে বললেন, 'আচ্ছা! বিয়ের সময় শাড়ি পরতে হয় কেন? শাড়ি ছাড়া কি দুনিয়াতে আর পোশাক নেই? তুই এমনিই চিকনি চাম...

অবৈধ বিয়ে

Image
  আমাদের নিচ তলায় এক ব্যাচেলর এসেছে.. এর আগেও অনেক এসেছেন তবে এই ব্যক্তি একটু ভিন্ন ধরনের। খাঁটি ধার্মিক বলা যায়। সবসময় পা পর্যন্ত পাঞ্জাবি, আবার কম বয়সে দাড়ি ও রেখছে। প্রতিদিন সকালে ঘুম ভাঙে তার ডাক শুনে. নামাজ পড়তে উঠায় সবাইকে। ধীরে ধীরে আমার আর আমার বান্ধবীদের হাসির পাত্রই হয়েগিয়েছিল সে। আমরা সদ্য কলেজে পড়ুয়া। যা কিছু পাই তাই নিয়ে মজা নিতে পছন্দ করি। গতকাল জানলাম তার নাম ইকবাল।সে গনিত নিয়ে অনার্স করছে। যেমন চলা ফেরা আমি ভেবেছিলাম ইসলামী ইতিহাস হবে হয়তো.. বাবা ইকবাল এর সাথে রোজ নামাজে যেতে যেতে ভালো সম্পর্কই হয়ে গিয়েছিল। বাবা প্রায় ই আমায় দিয়ে ইকবাল কে খাবার পাঠাতো। আমি খাবার নিয়ে গিয়ে দরজা নক করলে দরজা খুলতো ৩০মিনিট পর। কি যে করে আল্লাহ ই ভালো জানে। দরজা খুলেই সালাম। আমি কোন ভাবে সালাম এর উত্তর নিতাম।লজ্জাও লাগতো.. আমার চেয়ে বয়সে বড় একজন আমায় সালাম দিচ্ছে।রাগ হত খুব। খাবার দিয়ে এক মিনিট ও দাড়াতাম না। সেদিন আমি আর আমার বান্ধবী জবা ছাদ এ বসে আড্ডা দিচ্ছি এর মাঝেই ইকবাল সাহেব ছাদ এ আসলো তার পাঞ্জাবী নিতে। যেই আমাদের দেখছে সে তাড়াহুড়া করে ছাদ থেকে নেমে গেল।আমরা হো হো করে হেসে দিয়েছ...