অবৈধ বিয়ে

 আমাদের নিচ তলায় এক ব্যাচেলর এসেছে..

এর আগেও অনেক এসেছেন তবে এই ব্যক্তি একটু ভিন্ন ধরনের।
খাঁটি ধার্মিক বলা যায়।
সবসময় পা পর্যন্ত পাঞ্জাবি, আবার কম বয়সে দাড়ি ও রেখছে।
প্রতিদিন সকালে ঘুম ভাঙে তার ডাক শুনে.
নামাজ পড়তে উঠায় সবাইকে।
ধীরে ধীরে আমার আর আমার বান্ধবীদের হাসির পাত্রই হয়েগিয়েছিল সে।
আমরা সদ্য কলেজে পড়ুয়া। যা কিছু পাই তাই নিয়ে মজা নিতে পছন্দ করি।
গতকাল জানলাম তার নাম ইকবাল।সে গনিত নিয়ে অনার্স করছে।
যেমন চলা ফেরা আমি ভেবেছিলাম ইসলামী ইতিহাস হবে হয়তো..
বাবা ইকবাল এর সাথে রোজ নামাজে যেতে যেতে ভালো সম্পর্কই হয়ে গিয়েছিল।
বাবা প্রায় ই আমায় দিয়ে ইকবাল কে খাবার পাঠাতো।
আমি খাবার নিয়ে গিয়ে দরজা নক করলে দরজা খুলতো ৩০মিনিট পর।
কি যে করে আল্লাহ ই ভালো জানে।
দরজা খুলেই সালাম।
আমি কোন ভাবে সালাম এর উত্তর নিতাম।লজ্জাও লাগতো..
আমার চেয়ে বয়সে বড় একজন আমায় সালাম দিচ্ছে।রাগ হত খুব।
খাবার দিয়ে এক মিনিট ও দাড়াতাম না।
সেদিন আমি আর আমার বান্ধবী জবা ছাদ এ বসে আড্ডা দিচ্ছি এর মাঝেই ইকবাল সাহেব ছাদ এ আসলো তার পাঞ্জাবী নিতে।
যেই আমাদের দেখছে সে তাড়াহুড়া করে ছাদ থেকে নেমে গেল।আমরা হো হো করে হেসে দিয়েছিলাম।
এরকম হাসার কাজ সে একটা -দুটা করেনায়।
আমরা ওনাকে ক্ষ্যাত ই বলতাম।আমাদের দেখলেই মাথা নিচু করে হেটে যেত। আমরা বাঘ-না ভাল্লুক কে জানে?
বাবা হঠাৎ বাসায় এসে বললো,ইকবাল কাল থেকে আমায় গনিত পড়াতে আসবে।
আমি বললাম সে তো চেহারার দিকেই তাকায়না।গনিত কিভাবে বুঝাবে?
বাবা বলে,গনিত বুঝাতে চেহারা দেখা লাগেনা।
খুব বিরক্তি লাগছিল।একজন অসামাজিক মানুষ এর কাছ থেকে কোন ধরনের জ্ঞান নেয়া আমার জন্য অপমানের ছিল।
তাকে শিক্ষক মানাটাও লজ্জার ছিল।সবচেয়ে বড় কথা এখন চাইলেই আমি তাকে নিয়ে ঠাট্টা করতে পারবোনা...
দুপুর হতেই আমি তার বাসায় গিয়ে নক করলাম।সেই আবার দরজা খুলছেনা।
কিছুক্ষনপর দরজা খুলে আবার সালাম...
আমি: আপনাকে কি বাবা পড়াতে বলেছে আমায়?
ইকবাল: জ্বি..
আমি: আসলে আমি পড়বোনা..
ইকবাল: আসলে চাচা আমায় বলেছে আজ সন্ধ্যায় যেতে..
আমি: চাচা দিয়ে কি হবে?আমি পড়বো সো আমার ইচ্ছের দাম অনেক।আমি এখন কলেজে উঠেছি বুঝলেন।এখন আমি হাতে খড়ির বাচ্চানা যে বাসায় মাস্টার রেখে ক-খ শিখবো।
আমি কলেজের স্যার এর কাছেই পড়বো।আপনি বাবাকে বলবেন আপনি পড়াতে পারবেন না।
ইকবাল: আমি চাচাকে মিথ্যে বলতে পারবোনা।
উফ! রেগে চলে আসলাম এর চেয়ে বাবাকে ম্যানেজ করাও সহজ।
ঘড়িতে ঠিক কাটায়-কাটায় ৭টা। ইকবাল চ্যার হাজির।ওনারে স্যার বলতেও ইচ্ছে করেনা।
এতো বলার পর ও লজ্জা নাই।চাচা পাইছে একজন।
মা বললো যাও পড়তে ইকবাল বসে আছে।
আজব,আমি চা খাব তারপর যাব। পড়াতে আসলে একটু অপেক্ষা করতে হয়।
শুনিয়ে শুনিয়ে ই বলেছি।
পড়ার রুম এ গিয়ে দেখি সে হাতে একখানা বই নিয়ে নিচে তাকিয়ে পড়ছেন।
নিশ্চই গাইড দেখছেন।গনিত এ পড়লেই কি সে পিথাগোরাস হয়ে গেল নাকি?
পাশে গিয়ে সালাম দিলাম।আজ আর উনি আমায় সালাম দিচ্ছেনা।
উনি সালাম এর উত্তর নিয়ে বই টা পাশে রাখলেন..
আমি বই টা আড় চোখে দেখছি আসলে ওটা কি গাইড কিনা।গাইড হলেই বাবাকে জানাবো সে চুরি করে গনিত দেখে দেখে করায়।
অনেক চেষ্টা করেও বইয়ের নাম দেখতে পারলাম না।
এর মাঝেই উনি বললেন,গনিত বইটা বের করেন।
আমি হা করে তাকিয়ে আছি,শিক্ষক হয়ে ছাত্রী কে আপনি করে বলে এ আবার কেমন শিক্ষক!
১টা ঘন্টা আমি কোন মতে বসেছি আর উনি চুপচাপ খাতায় গনিত করছেন।
মনে হয় ওনাকে আনা হয়েছে গনিত এর নোট লিখাতে..
কিচ্ছুক্ষন পর পর ই বলছে না বুঝলে বলবেন...
আমি তো কিছুই বুঝিনাই তাই আর বলিও নাই।ওনার কাজ গনিত করিয়ে উনি চলে গেলেন।
উনি যাবার পর ই দেখি টেবিল এ সেই গাইড রাখা।ভুলে রেখে গেছেন।
আমি তাড়াহুড়া করে খুলে দেখলাম ওটা আসলে "মক্বছুদুল মুমীন"
বই খুলেই দেখি লেখা "বেহেস্তের পথ"
আর সাথে এক মিষ্টি ঘ্রান..কোন সুগন্ধি আতরের।
যে খাতায় ইকবাল অংক করেছে সেই খাতা-কলম থেকেও সেই একই ঘ্রান।ঠিক যেন শেফালী ফুলের ঘ্রান...
তার মানে এই আতর খেঁজুর ই দিয়ে এসেছিল।
ইকবাল কে আমি তার পিছনে খেঁজুর বলেই ডাকতাম...
চলবে..

বাকি অংশগুলো “রোমান্টিক গল্প“ ফোল্ডার থেকে পড়তে পারেন.....
গল্প-অবৈধ বিয়ে
পর্বঃ-০১
লিখেছেন: Umme Nipa


Comments